চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ভর্তি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি প্রকৌশল খাতে ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
চুয়েট শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দেশের প্রকৌশল ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ‘ডিপ্লোমা সিন্ডিকেট’ সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের প্রভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে সিন্ডিকেটভিত্তিক সুবিধা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা প্রকৌশল পেশার মান ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তাদের দাবি, নবম গ্রেডে প্রকৌশলী পদে নিয়োগের জন্য সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা অবশ্যই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং হতে হবে। এছাড়া দশম গ্রেডকে সম্পূর্ণ কোটামুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ যেন প্রকৌশলীর পদবি ব্যবহার করতে না পারেন। এসব দাবিই তাদের আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যানার টাঙিয়ে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন। তাদের মতে, ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে তারা প্রস্তুত। আন্দোলনরতরা বলছেন, এটি কেবল চুয়েটের সমস্যা নয়; দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি বড় ইস্যু।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চুয়েটের পাশাপাশি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে সরব হয়েছেন। ফলে এ আন্দোলন ক্রমেই সারাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের এক অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করিয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ প্রকৌশল খাতে সংস্কারের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। যদি কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার নিতে পারে। এর ফলে শুধু ভর্তি কার্যক্রম নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমও বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।
চুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ইতোমধ্যেই সাড়া ফেলেছে প্রকৌশল শিক্ষাক্ষেত্রে। দাবি আদায়ে তারা কতদূর যেতে পারে, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা।