ঢাকার ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত হয়। এ ভিড় সামলাতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি দেখা যায় বিশেষ এক দলের তরুণকে। এরা সবাই ছাত্রছাত্রী, যাদের পরিচিতি ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গার্ড নামে। মূলত পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের ব্যয়ভার সামলাতে অনেকেই এই কাজে যুক্ত হয়েছেন।
অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, পরিবারের আর্থিক সংকট মেটাতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ করে তাঁরা মাস শেষে একটি নির্দিষ্ট ভাতা পান। যদিও এই ভাতা খুব বেশি নয়, তবুও তা দিয়ে নিজেদের পড়ালেখার খরচ চালানো এবং পরিবারকে কিছু টাকা পাঠানো সম্ভব হয়। ফলে শিক্ষাজীবনে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা হলেও কমে আসে।
এদের দায়িত্ব হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সড়কে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা, পথচারীদের সঠিকভাবে পারাপার করানো এবং যানজট কমাতে সহায়তা করা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শিফটে কাজ করতে হয় তাঁদের। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি কিংবা ধুলাবালির মাঝেও কাজ চালিয়ে যেতে হয় এই তরুণদের। তবুও তারা গর্বিত, কারণ নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন।
কাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। যেমন—সড়ক নিরাপত্তা, মানুষের সাথে যোগাযোগ দক্ষতা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি। তবে শারীরিক কষ্ট ও মানসিক চাপও রয়েছে যথেষ্ট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা, হর্নের শব্দ, দূষিত বাতাস ও যানজটের চাপ তাঁদের ক্লান্ত করে তোলে। তবুও পরিবার ও পড়াশোনার জন্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, “পড়াশোনার খরচ মেটাতে এবং সংসারে সাহায্য করতে পারাটা আমার কাছে গর্বের বিষয়। সামান্য টাকাই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।”
ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা এসব শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করছেন যে সীমাবদ্ধতার মাঝেও সংগ্রামের ইচ্ছা থাকলে জীবন এগিয়ে নেওয়া যায়। তাঁরা শুধু নিজ পরিবারকেই নয়, সমাজকেও এক ধরনের সেবা দিচ্ছেন।