পবিপ্রবিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চাপ

পবিপ্রবি প্রতিনিধি
ফাইল ফটো। ছবি: সংগৃহীত
ফাইল ফটো। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও অনুষ্ঠিত হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (পাকসু) নির্বাচন।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় স্পষ্টভাবে পাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু প্রশাসনের গড়িমসির কারণে এই নির্বাচন এখন পর্যন্ত অধরাই থেকে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কেন এখনও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালার ১৩৯ থেকে ১৫৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাকসু ও হল সংসদের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র উল্লেখ রয়েছে। অথচ এত বছরেও কোনো নির্বাচন হয়নি। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে কিংবা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তাই পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা মনে করেন, প্রশাসনের এই নীরবতা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তি সময় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন “ছাত্র সংসদ ফি” বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। পাশাপাশি হল সংসদের নামে প্রতিটি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়। অথচ সেই বিপুল অর্থ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা নেই। প্রশাসন কোথায় ও কীভাবে এই অর্থ ব্যবহার করছে, তা শিক্ষার্থীদের কাছে অজানা থেকে গেছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্র সংসদের নামে একটি কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও পরবর্তীতে তা অন্য সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এটি প্রশাসনের পাকসু নির্বাচনের প্রতি অবহেলারই স্পষ্ট প্রমাণ।

সম্প্রতি ‘পবিপ্রবিয়ান’ নামের একটি বড় শিক্ষার্থী ফেসবুক গ্রুপে অনানুষ্ঠানিক এক গণভোটে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেখানে ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পাকসু নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। এ থেকেই বোঝা যায়, পবিপ্রবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব ছাত্র সংসদ চায়।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা হবে।”

তবে তার ওই বক্তব্যের পর এ বিষয়ে কোনো পরবর্তী পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে।

আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শামীমা সুলতানা এলেন বলেন, “পাকসু নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এটি হলে ভবিষ্যতে কোনো একক পক্ষের আধিপত্য থাকবে না। আমাদের অনুসরণ নয়, দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। শুধু অনলাইন নয়, সরাসরি উদ্যোগ নিতে হবে।”

কৃষি অনুষদের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের পথ উন্মোচন করবে। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন হয়েছে। তাই দ্রুত পাকসু বাস্তবায়নে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।”

পবিপ্রবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জান্নাতীন নাঈম জীবন বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। প্রশাসন দ্রুত শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে বলে আমরা আশা করছি।”

এ বিষয়ে পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল বলেন, “আমরা ছাত্র সংসদ নির্বাচন চাই, বাকিটা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে।”

অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকায় ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, “প্রশাসন এখনো এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমি উপাচার্যের নির্দেশে কাজ করি। তিনি আদেশ দিলে আমি সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করব।”

পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই দীর্ঘ নীরবতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা আশা করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত শিক্ষার্থীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

সম্পর্কিত