৮ মাসেও শেষ হয়নি জাককানইবির কেন্দ্রীয় মাঠ সংস্কার

আসাদুল্লাহ আল গালিব, জাককানইবি
 ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সংস্কারের ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়নি। বরং পরিকল্পনার অভাব ও ঠিকাদারি জটিলতায় মাঠ এখন বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝেও একধরনের চাপা ক্ষোভ কাজ করছে। দীর্ঘদিন খেলাধুলা বন্ধ থাকাতে শিক্ষার্থীরা ব্যঙ্গ করে ‘বালু খেকো মাঠ’, কেউবা বালুর ঢিবিকে ‘পিরামিড’ বলে রসিকতা করছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত কাজ সম্পন্ন না করা হলে, তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের খেলোয়াড় সানোয়ার রাব্বি প্রমিজ বলেন, মাঠ সংস্কারের দাবিতে আমরা বহুদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি। প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ, ঠিকাদার সব জায়গায় বলেছি। যখন আন্দোলন করি, কিছুটা কাজ এগোয়; না করলে আবার থেমে যায়। প্রায় সাত মাস ধরে শুধু বালু ফেলার কাজই শেষ হয়নি।

দ্রুত কাজ না শেষ হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামবে এমন হুঁশিয়ারী দিয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমান প্রশাসন আন্তরিক হলেও ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি আমাদের হতাশ করছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের অগ্রগতি নেই। দ্রুত কাজ শেষ না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠ সংস্কার, ওয়াকওয়ে, সৌন্দর্যবর্ধন ও সড়ক নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে মাঠ সংস্কারে প্রয়োজনীয় অংশ ব্যয় করা হচ্ছে। ঠিকাদারের ঢিলেমির কারণে আটকে রাখা হয়েছে বিল এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মো. নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কন্ট্রাক্টর, ছাত্র প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগের ঠিকাদারের দুর্বল কাজের কারণে বিল আটকে রাখা হয়েছে, নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এক মাসের মধ্যে খেলার মাঠ উপযোগী করার চেষ্টার কথা জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মোফাসিরুল ইসলাম বলেন, মাঠের জন্য লাল ও সাদা বালুর মিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছে। লাল বালু পঞ্চগড় থেকে আনতে সময় লাগছে। মিশ্রণ সম্পন্নের পর দুই মাসের মতো সময় লাগবে মাটি ভিজিয়ে স্থিতিশীল করতে, তারপর ঘাস বিছানো হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে এক মাসের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযোগী করা সম্ভব।

প্রকৌশল দপ্তরের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, প্রথম পর্যায়ের কাজগুলো বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছিল। এখন বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) সুপারিশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। শুরু থেকেই যদি বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হতো, তাহলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হতো।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাহাত হাসান দিদার বলেন, বর্তমানে ডিজাইন অনুযায়ী শেষ স্তরের কাজ চলছে। বিকেএসপির পরামর্শ অনুযায়ী ঘাস লাগানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকের কাজ পরিকল্পনাবিহীন ছিল, তবে এখন সবকিছু নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী এগোচ্ছে।

এদিকে মাঠ সংস্কার কাজের অগ্রগতি জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুবু এন্টারপ্রাইজের মালিক মুরাদ মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত