বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির মেয়ের ভর্তিতে কোটা

ববি প্রতিনিধি।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘পোষ্য কোটা’ নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের মেয়ে ফাতেমা তৌফিক এবার ভর্তি হয়েছেন এ নীতির সুবিধায়। অভিযোগ উঠেছে, তার মেধা তালিকায় অবস্থান ছিল ৩২ হাজারেরও বেশি, যা মূল ভর্তি প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করত না।

সূত্র জানায়, ফাতেমা তৌফিক প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। পরে নিয়ম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের মাধ্যমে তিনি স্থানান্তরিত হয়ে যান বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন—মেধা তালিকায় এত নিচে থাকা সত্ত্বেও কেবল কোটা নীতির সুযোগে কীভাবে তিনি ভর্তির সুযোগ পেলেন? তাদের অভিযোগ, এভাবে সুযোগ দিলে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভর্তি কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতেই হয়েছে। তার দাবি, কোনো নিয়ম ভঙ্গ করা হয়নি, বরং পোষ্য কোটা নীতির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই ভর্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারছেন না। তাদের মতে, যেকোনো কোটার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সুবিধাবঞ্চিত বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। অথচ এখানে ক্ষমতাবানদের স্বজনরা সুবিধা পাচ্ছেন। এতে করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোও এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তাদের বক্তব্য, মেধার ভিত্তিতে যারা শীর্ষে ছিলেন তারা বঞ্চিত হয়ে পড়ছেন, আর কোটা নামক সুযোগের অপব্যবহার ঘটছে। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আস্থাহীনতা বাড়তে পারে।

সর্বোপরি বলা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির মেয়ের ভর্তি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা কেবল একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; বরং পুরো কোটা নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

সম্পর্কিত