চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত সেকশন অফিসারদের “পেশাগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী সেশন সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুর দুইটায় চবির মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করেন চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।
চবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রথমদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনের পরিচালনায় কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে প্রশিক্ষক হিসেবে টেকনিক্যাল সেশন পরিচালনা করেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমকি) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও হিসাব নিয়ামক দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল হোসেন।
কর্মশালায় সেশন পরিচালনার সময় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা খাতকে এগিয়ে নিতে একজন অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য অফিসারদের প্রশাসনিক কাজে দক্ষ হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করেই কাজ করতে হবে। কারণ প্রতিটি জিনিস সবার কাছে আমানত। সর্বোপরি সকলকে সৎ ও নৈতিক হতে হবে। এছাড়া প্রশাসনিক কাজ সামলানো, শিক্ষার্থীদের সহায়তা পরিষেবা দেওয়া, শিক্ষা উপকরণ রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করাসহ বিভিন্নভাবে কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে অফিসারদের ভূমিকা অনেক বেশি।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা, এ দুটি গুণকে আমরা শুধু দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং আমাদের কর্মজীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখতে পারি। পেশাদারিত্ব মানে শুধু কাজ করা নয়, বরং কাজের প্রতি একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা পোষণ করা। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব হলো ব্যক্তি ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে বিশ্বাস ও সম্মানের একটি শক্তিশালী বন্ধন। এছাড়া শৃঙ্খলা হলো সফলতার আরেক অপরিহার্য উপাদান। এটি নির্দিষ্ট আচরণবিধি বা নিয়মনীতি অনুসরণ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়। শৃঙ্খলা আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং দায়িত্ববোধের অনুভূতিকে শক্তিশালী করে। শৃঙ্খলা থাকলে আমরা আমাদের কাজে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারি। এটি আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করে। যখন আমরা শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকি, তখন আমাদের কাজগুলো আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়। পেশাদারিত্ব আমাদের অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করে এবং শৃঙ্খলা আমাদের নিজেদের কাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এই দুটি গুণকে ধারণ করে আমরা কর্মজীবনে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করতে পারি বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। এ সময় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা এমন উদ্যোগের জন্য আয়োজকদেরক ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের কর্মশালা প্রত্যেক অফিসারের জন্য আয়োজন করার অনুরোধ জানান।