চবির হলে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা চালু

চবি প্রতিনিধি
 ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে চালু হলো উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা। 

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলাওল হল সংসদের নবনির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে প্রাচীন আবাসিক এই আলাওল হল, যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। বর্তমানে এখানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই হলে ইন্টারনেট সংযোগে অস্থিতিশীলতা থাকায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, গবেষণা ও বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে ভোগান্তিতে ছিলেন।

এই স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার অর্থায়ন করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে অবস্থিত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের সন্তান সাঈদ আল নোমান তূর্য।

আলাওল হল সংসদের নবনির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) নূর নবী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা বিকল্প হিসেবে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু করেছি। এই সেবার মাধ্যমে এখন আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি আলাওল হলের নবনির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের। চাকসু নির্বাচনের পরপরই তারা শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সমস্যার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে এবং স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করেছে। যদিও আলাওল হলে পূর্ব থেকেই ইন্টারনেট সেবা ছিল, তবে তা পর্যাপ্ত ছিল না। নতুন এই সেবা একটি অতিরিক্ত ও কার্যকর সংযোগ হিসেবে কাজ করবে।’

ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে তার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তারা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকে, তাদের সমস্যাগুলো বোঝে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানে ভূমিকা রাখে।

আমি নিজেও একসময় এই আলাওল হলের শিক্ষার্থী ছিলাম। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী হল। আজও এই হল আমার কাছে প্রাণের জায়গা। ছাত্র প্রতিনিধিরা এখন যেভাবে বাইরের সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি জানতে পেরেছি, সাঈদ আল নোমান এই উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা করেছেন - এটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান বিতরণের স্থান। তাই স্টারলিংক ইন্টারনেটের এই নিরবচ্ছিন্ন সেবা যেন শিক্ষার্থীরা একান্তভাবে জ্ঞান অর্জনের কাজে ব্যবহার করে, সেটিই আমার প্রত্যাশা।”

আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নুহাত বলেন, ‘আগে ইন্টারনেট সমস্যার কারণে বাইরে থেকে সেবা নিতে হতো। এখন যদি এই সংযোগ স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আর বাইরে থেকে নিতে হবে না - এতে খরচও কমবে।’

সম্পর্কিত