ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবন নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এই ভবনে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় অনেকে সমালোচনার তীর ছুড়েছেন নবনির্বাচিত ডাকসু নেতাদের দিকে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা বিলাসবহুল সাজসজ্জা বা এসি বসানোর মতো কাজ করতে যাচ্ছেন। তবে ডাকসুর সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিত্যক্ত ভবনটিকে অন্তত বসার উপযোগী করার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, এসি লাগানোর জন্য নয়। ভবনের ভেতরের পুরোনো আসবাবপত্র, ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিল, নষ্ট বৈদ্যুতিক লাইন ও অচল বাথরুমের কারণে সেখানে নিয়মিত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সর্ব মিত্র বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা এসে আলোচনায় অংশ নিতে পারে। নতুন কিছু না কিনে পুরোনো জিনিসপত্র মেরামত করেই তা ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে।” তিনি জানান, ডাকসুর বিভিন্ন অংশে নান্দনিক ছোঁয়া আনতে তিনটি থিমে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ডাকসু ভবনের সংস্কারকাজের জন্য সীমিত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেট ব্যবহারে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি কোনো বিলাসবহুল সাজসজ্জার প্রকল্প নয়, এটি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ।”
অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ তুলেছেন যে এই সংস্কার নিয়ে প্রশাসন ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে। তারা দাবি করেছেন, ডাকসু ভবনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা—সেটি যেন ভুলে না যায়।
তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের মত, পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার হলে ক্যাম্পাসে কার্যকর পরিবেশ তৈরি হবে। অনেকে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু ভবনটি এমন অবস্থায় ছিল যে, সেখানে কেউ যেতে চায় না। এখন যদি সেটি আধুনিকভাবে সাজানো হয়, তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কাজের অগ্রগতি চলমান এবং তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।