ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের লিফট আবারও বিকল হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লিফটে আটকা ছিলেন। পরে লিফটম্যান ও নিরাপত্তা কর্মীরা এসে তাদের উদ্ধার করেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী লিজিয়া পারভিন মনিকা বলেন, “লিফট যখন দুই ও তিনতলার মাঝে আটকে গেল, তখন বাতাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল এবং লাইটও বারবার চালু-বন্ধ হচ্ছিল, আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম।”
জানা গেছে, এর আগেও ২৭ এপ্রিল কলা ভবনের লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২৬ জন শিক্ষার্থী প্রায় ৩০ মিনিট আটকা পড়েছিলেন। এরপর ২৮ এপ্রিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চার দফা দাবি জানিয়েছিল, যাতে লিফটের নিয়মিত সংস্কার ও লিফটম্যানের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। দুই মাস আগে লিফটগুলো সংস্কার করা হলেও ফের এমন ঘটনা ঘটেছে।
২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকারম ভবনের লিফট থেকে পড়ে একজন সিনিয়র সহকারী হিসাব পরিচালক মারা গিয়েছিলেন। শিক্ষার্থী লিজিয়া জানান, “আমরা ৯ জন লিফটে উঠেছিলাম, যা ধারণক্ষমতার মধ্যে। তবে সাইরেন বাজেনি। কিছুক্ষণ পরে লিফটম্যান এসে আমাদের উদ্ধার করেন।”
কলা ভবনের লিফটম্যান সুলায়মান বলেন, “বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ব্যাটারি কানেকশন কাজ করেনি, তাই লিফট আটকা পড়ে।” লিফট তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব জানান, “ভোল্টেজ কম থাকায় সম্ভবত আজ লিফট আটকা গেছে।”
ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “আমাদের মূল উদ্বেগ লিফটগুলো পরিবর্তন ও ত্রুটির যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা।” তিনি উল্লেখ করেছেন, বাজেট না থাকায় এখনও নতুন লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কলাভবনের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান জানিয়েছেন, “লিফটগুলো দামি, নতুন করে স্থাপন করা বাজেট ছাড়াই কঠিন। তবে মাঝের লিফটে সমস্যা হলে এক্সচেঞ্জের কথা ভাবছি।” তিনি আরও বলেন, ধারণক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী উঠলে লিফটে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
/এমএস