ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি গ্রহণ করে মানবসম্পদ তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি। প্রাণপ্রিয় ডুয়েট সেই দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দক্ষ মানবসম্পন তৈরি ও জ্ঞাননির্ভর সমাজ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা অপরিহার্য।বুধবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন একাডেমিক ভবনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রফেশনাল রেস্পনসিবিলিটিজ আঅ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইউনিভার্সিটি চিফার্স শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডুয়েটের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড.মো.ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ও আইকিউএসি (বাকৃবি) পরিচালক ড. এম. আসাদুজ্জামান সরকার। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষকতা পেশায় নৈতিকতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষকদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন, দক্ষতা অর্জন, দেশ-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়কে উপস্থাপনে যোগ্য প্রতিনিধিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি আয়ত্ত করে গবেষণায় অগ্রসর হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা জাগ্রত করে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করতে হবে। এই কর্মশালা শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, একজন দক্ষ শিক্ষকই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে গতিশীল, গবেষণাভিত্তিক ও আধুনিকায়ন করতে পারেন। আমি মনে করি,এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষকবৃন্দ পেশাগত দায়িত্ববোধ, গবেষণামুখী মনোভাব ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব,দক্ষতা উন্নয়ন,শিক্ষাপদ্ধতির গুণগত মান নিশ্চিতকরণ বিষয়ক আলোচনা হয়। পরিশেষে প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে কর্মশালাটি সমাপ্ত হয়। উক্ত কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডীন,বিভাগীয় প্রধান,ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালকবৃন্দ,আইকিউএসি এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকবৃন্দ,আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্যাজুয়েট কোর্স কো-অর্ডিনেটরসহ প্রতিটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে মনোনীত শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করেন।