গবেষণায় মৌলিকতা রক্ষায় ব্যর্থ ঢাবির উদ্ভাবিত সফটওয়্যার

ঢাবি প্রতিনিধি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধন হলেও অচল হয়ে আছে বাংলা ভাষার গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি শনাক্তের সফটওয়্যার “ডিইউবিডি২১”। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধন হলেও অচল হয়ে আছে বাংলা ভাষার গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি শনাক্তের সফটওয়্যার “ডিইউবিডি২১”। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় রচিত লেখনীতে চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজিয়ারিজম শনাক্তের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল এক অনন্য সফটওয়্যার। “ডিইউবিডি২১” নামের এই সফটওয়্যারটি ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা আজও অনিশ্চিত। উদ্বোধনের পর থেকেই এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার হয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীই জানেন না যে, এমন একটি সফটওয়্যার আদৌ চালু করা হয়েছিল। মূলত সফটওয়্যারটি যে দপ্তরে হস্তান্তর করার কথা ছিল, সেখানে তা পৌঁছায়নি। পাশাপাশি বাংলা ভাষার লেখাগুলোকে একটি শক্তিশালী ডাটাবেসে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ফলে এর কার্যকর ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের সফটওয়্যার কেবল একটি সহায়ক মাধ্যম। কেউ যদি সরাসরি নকল করে, সেটি সহজে ধরা সম্ভব। কিন্তু লেখার ভঙ্গি পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলে তা শনাক্ত করা সফটওয়্যারের পক্ষে কঠিন। এ কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় বিষয় বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত বিদেশি সফটওয়্যার Turnitin ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও প্লেজিয়ারিজম শনাক্তে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ঢাবির নিজস্ব এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ অকার্যকর হয়ে পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনেকের মতে, যথাযথ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবেই সফটওয়্যারটি মৃতপ্রায় হয়ে আছে।

বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় মৌলিকত্ব বজায় রাখার জন্য এমন প্রযুক্তি অপরিহার্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সফটওয়্যারটি পুনরায় সক্রিয় করা সময়ের দাবি বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

সম্পর্কিত