জাকির নায়েককে সম্মানসূচক ডিগ্রি দিতে ঢাবিতে বিশেষ সমাবর্তনের দাবি

ঢাবি প্রতিনিধি
 ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. জাকির নায়েককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট ডিগ্রি’ উপাধিতে ভূষিত করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরারবর স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন তারা।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন উপাচার্যে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি জাকির নায়েককে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানসহ ইভটিজিং, বুলিং ও ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘ড. নায়েকের অবদান শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি মানবতার কল্যাণ, শিক্ষার প্রসার ও নৈতিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও অনুকরণীয় উদাহরণ স্থাপন করেছেন। ভারতের তৎকালীন উগ্রপন্থী সরকারের চাপের মুখে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথি মর্যাদা প্রদান করেছে।’

সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের প্রস্তাব জানিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সফররত অবস্থায় ড. জাকির আব্দুল করিম নায়েককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হোক। এটি একদিকে ইসলামী জ্ঞান, যুক্তিবাদ ও মানবতার বার্তাকে সম্মান জানানোর এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ হবে; অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।’

স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন রিয়াদুল ইসলাম যুবাহ, রাহাত খান ও আশিকুর রহমান আফফান।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে রিয়াদুল ইসলাম যুবাহ বলেন, জাকির নায়েককে দেশে এনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি উপাধিতে ভূষিত করলে তা হবে এই দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ এবং ভারতীয় আধিপত্যের জন্য হবে দাঁত ভাঙ্গা জবাব। এই বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যারা এখনও সমাবর্তন পাননি তাদের ও এটা সম্পন্ন হবে। তাই এই সমাবর্তন আমাদের ভাইবোনদের ও প্রাণের দাবি। উপ-উপাচার্য ম্যাম জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার স্যারকে এ বিষয়ে অবগত করবেন এবং ভিসি স্যার দেশে ফিরলে আলোচনা করবেন। সেই সাথে ইভটিজিং, বুলিং ও হ্যারাসমেন্টের বিরুদ্ধে কমিটি গঠনের কাজ চলছে, সেটি কার্যকর হলে সেগুলোও কমে আসবে।

এ সময় তিনি ক্যাম্পাসে অনলাইন বা অফলাইন হ্যারাসমেন্ট, সাইবার বুলিং, স্লাটশেমিং এবং সেই সাথে পরিকল্পিত ধর্মীয় উস্কানি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

/এমএস

সম্পর্কিত