জাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, পুনর্নির্বাচনের দাবি

জাবি প্রতিনিধি।
জাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি ছাত্রদল সমর্থিত সাদী-বৈশাখী প্যানেল। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
জাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি ছাত্রদল সমর্থিত সাদী-বৈশাখী প্যানেল। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল সমর্থিত সাদী-বৈশাখী প্যানেল। তাদের দাবি, নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের কারণে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং তাই পুরো নির্বাচন বাতিল করে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের নেতারা অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠুতা বজায় রাখা হয়নি। তাদের ভাষ্যমতে, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়, যা পরবর্তীতে ভোটকেন্দ্রে অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে। এছাড়া, তাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, ফলে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

আরও অভিযোগ করা হয়, একাধিক হলে জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কিছু হলে ভোটগ্রহণ চলতে থাকে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়া ভোটারদের আঙুলে ব্যবহৃত কালি ছিল অমোচনীয়, যা ভোটের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।

প্যানেল নেতারা আরও বলেন, নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের বাইরে বহিরাগত জামায়াতকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল। তাদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে। এসব ঘটনায় পুরো নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল।

তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কমিশনের নীরবতা অনিয়মকারীদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। প্রকৃত ফলাফলের প্রতিফলন ঘটেনি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের প্যানেল ভালো ফলাফল করত বলে দাবি করেন তারা।

শেষ পর্যন্ত তারা স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান ফলাফল তারা মেনে নেবেন না। অবিলম্বে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকের মতে, এ ধরনের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এখন সবার দৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দিকে, তারা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটিই দেখার বিষয়।

সম্পর্কিত