দীর্ঘ এক বছরের নিষেধাজ্ঞার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের আলোচনায় এসেছে ছাত্রলীগের রাজনীতি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সেই সময় জানানো হয়, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে এবং কেউ যদি সংগঠনের নামে কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষিদ্ধ ঘোষণার পর এতদিন সংগঠনের তেমন কোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম দেখা যায়নি।
তবে নতুন এই কমিটি ঘোষণার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “যদি কোনো শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হবে।” তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে।
অন্যদিকে, কমিটি ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, সংগঠনের পুরনো নেতৃত্ব নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও এমন কর্মকাণ্ড কীভাবে সম্ভব হলো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, যদি এই কমিটি বা সংশ্লিষ্টরা কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতি স্থগিত থাকলেও, এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও রাজনৈতিক তৎপরতার আভাস মিলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর নয়। ফলে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।