নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পদ পেতে অছাত্র-বিতর্কিতদের দৌড়ঝাঁপ

আসাদুল্লাহ আল গালিব, জাককানইবি।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিবাহিত, অছাত্র ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংগঠনের ভেতরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নিয়মিত ছাত্রনেতারা এই পরিস্থিতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০২১ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়। এ কমিটিতে ইমরান হোসেন প্রধানকে আহ্বায়ক ও আল-আমিনকে সদস্য সচিব করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাসের জন্য এ কমিটি থাকলেও চার বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কাঠামোয় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চলতি বছরের ২১ মে মুক্তমঞ্চে কর্মীসভা ও ২২ মে ভাইভা অনুষ্ঠিত হলেও এখনও নতুন কমিটি ঘোষণা হয়নি। বর্তমান কমিটির ২৭ জনের মধ্যে ২০ জন মাঠে সক্রিয় নন, অনেকের ছাত্রত্বও শেষ হয়ে গেছে।

চারুকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মহিউদ্দিন ২০১৮ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। তিনি ২০২২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০২৩ সালে সন্তানের জন্ম হয়। তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা সানোয়ার রাব্বি প্রমিজকে পুনর্বাসনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

অন্য সভাপতি পদপ্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ত্রিশালের একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. উবায়দুল্লাহর চাচা। তার নেতৃত্বে কর্মীসভায় ছাত্রলীগের একাধিক নেতা পুনর্বাসিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় টাকা লেনদেনের কিছু স্ক্রিনশটও ফাঁস হয়েছে।

সভাপতি পদপ্রার্থী মামুন সরকার ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মারুফ হাসানকে পুনর্বাসন করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী ইমরান ফরাজীর অনুসারী জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শোকজ নোটিশ পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তোফায়েল ইসলামের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পূর্বে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। আরেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. মাশরুর আহমেদ ইনানের বিবাহের ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অছাত্র ও বিতর্কিত প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে হতাশ হয়ে পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ছাত্রনেতারা। তারা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রত্ব শেষ, বিবাহিত বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের পদপ্রত্যাশী করা হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

মো. মহিউদ্দিন বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি কমিটি আনার ব্যাপারে, তবে কেন্দ্রীয় স্তরের কাজ ও ডাকসু নির্বাচনের চাপের কারণে একটু সময় লাগছে।” তবে ছাত্রত্ব শেষ ও পরিবার থাকা সত্ত্বেও সভাপতি পদে আবেদনের বিষয়ে তার স্বর পাল্টে গিয়ে বলেন, “আমি বুঝছি তুমি কি নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছো। পরে কথা বলব।”

হাবিবুর রহমান হাবিব সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “টাকা লেনদেনের স্ক্রিনশট সুপার এডিট করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ এটি ফেসবুকে দিয়েছিল, পরে তারা সংশোধন করেছে। আমি ছাত্রলীগের কাউকে পুনর্বাসন করি নি। যারা অভিযোগ দিয়েছে তারা মিথ্যা বলেছে।”

মামুন সরকার বলেন, “মারুফ হাসানকে আমি চিনি না। আপনার কাছে যে ছবি রয়েছে, তা আমাকে পাঠান, দেখার পর মন্তব্য করতে পারব। নির্বাচনে বহিষ্কৃত প্রার্থীর পক্ষে সামান্য কিছু কাজ করেছি। এটি কোনো বড় বিষয় নয়।”

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি সংক্রান্ত টিম লিডার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাকির আহমেদ বলেন, “যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, তার আংশিক সত্য। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রার্থীদের সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।”

/এমএস

সম্পর্কিত