দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি বছর কমছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত ৫০তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে এই সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭৬৭ জন। পরবর্তী বছরগুলোতে এ সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পায়। ২০২২ সালে তা দাঁড়ায় ৬৭০ জনে, আর ২০২৩ সালে নামতে নামতে দাঁড়ায় ৬৩৩ জনে। অর্থাৎ এক বছরে ৩৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলকভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে এ সংখ্যা একেবারেই কম। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সর্বাধিক ১১২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এরপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৯১ জন, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭ জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অন্যদিকে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি অশনিসঙ্কেত। কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কেবল বৈদেশিক মুদ্রা আনে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, বৈচিত্র্য ও বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, ভর্তির প্রক্রিয়া জটিলতা, আধুনিক অবকাঠামোর অভাব, আন্তর্জাতিক প্রচারণার সীমাবদ্ধতা এবং উন্নত দেশগুলোর বাড়তি সুযোগ এ প্রবণতার অন্যতম কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, ডরমিটরি ও ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। না হলে ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমতে পারে, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।