রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুরের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে হাতাহাতি সংঘটিত হয়। ছাত্ররা কয়েকদিন ধরে শান্তিপূর্ণ অনশন করছিলো, কিন্তু প্রশাসনের অবহেলার কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রো-ভিসি অধ্যাপক মেইন উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতেখারুল ইসলাম মাসুদ, প্রোক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা অধ্যাপক আখতার হোসেন মাজুমদার যখন ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন শিক্ষার্থীরা তাদের আটকে দেয়। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে প্রশাসনের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে।
হাতাহাতির সময় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন প্রো-ভিসি, ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছাত্র নেতারা আল শাহরিয়ার শুভ ও সালাহউদ্দিন আম্মার। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, যেমন ইসলামী ছাত্র শিবির এবং বামপন্থী ছাত্র গ্রুপ, ঘটনাস্থলে এসে স্লোগান দিতে শুরু করে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবনের দ্বিতীয় তলার জানালা ভাঙচুরও করে।
ছাত্রনেতা সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ অনশন করছিলাম, কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা ও আক্রমণাত্মক মনোভাব অগ্রহণযোগ্য।” আল শাহরিয়ার শুভও মন্তব্য করেন, “আমাদের দাবি যৌক্তিক, তবে প্রশাসনের কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণ সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। সংলাপে সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত ছিল।”
এই সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা ইস্যুতে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। শিক্ষার্থীরা চাইছেন, পোষ্য কোটা বাতিলের পরিবর্তে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান নেওয়া হোক। ঘটনাটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ন্যায়সঙ্গত ভর্তি ও সামাজিক সমতার প্রশ্নকে নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।