রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে মেয়েদের ছয়টি ও ছেলেদের দুটি হলের ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় চারগুণ ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। একইভাবে জিএস পদে প্রায় দ্বিগুণ ভোটে এগিয়ে আধিপাত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টায় সবশেষ শাহমখদুম হলের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে দেখা যায়, আগের সাতটি হলের মতো এখানেও সর্বোচ্চ ৭৩২ ভোট পেয়েছেন জাহিদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাত্রদলের প্যানেলের শেখ নূর উদ্দিন আবির পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। এ পর্যন্ত ঘোষিত ৮ হলের ফলাফলে জাহিদ মোট ৫ হাজার ৪৭৮ ও আবির ১ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়েছেন।
জিএস পদে আধিপাত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার শাহমখদুম হলে পেয়েছেন ৭৩২ ভোট। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাত্রশিবিরের ফাহিম রেজা পেয়েছেন ২৯৭ ভোট। ৮ হলে এ পর্যন্ত আম্মার ৫ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। ফাহিম রেজা পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮১ ভোট।
এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্যানেলের সালমান সাব্বির শাহমখদুমে পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্যানেলের জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৩৬৮ ভোট। ৮ হলে সালমানের ভোট ২ হাজার ৯৬৪। এষা পেয়েছেন ২ হাজার ২৮৭।
এ পর্যন্ত আটটি কেন্দ্রেই জাহিদ, আম্মার ও সালমান সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবির, ফাহিম ও এষা।
রাবিতে মোট হলের সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে ছেলেদের ছয়টি ও মেয়েদের ১১টি হল। এখনও ছেলেদের ৯টি হলের ফল ঘোষণা বাকি। বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ওএমআর মেশিনে ব্যালট গণনার পর ফল ঘোষণা করা হচ্ছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন আনা হয় সকল কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় ভোটগণনা।
এবারের রাকসু নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে। কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ।
সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ নারী, ৬০ দশমিক ৯০ পুরুষ।