টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহজামান দিঘী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বিনোদন ও প্রশান্তির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে দিঘীটির সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত শাহজামান দিঘী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক সংলগ্ন এই দিঘী প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আশপাশের মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৬৬৮সালে স্থানীয় পীর শাহজামান( রহ)মানুষের পানি সরবরাহ ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে দিঘীটি খনন করেছিলেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দিঘীটি নতুনভাবে পরিচিতি পায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাস ও পাঠচাপের বাইরে শাহজামান দিঘীর পাড় তাদের আড্ডা ও বিনোদনের প্রধান জায়গা। বিকেলের সময় এখানে বসে অনেকেই হাঁটাহাঁটি করেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন কিংবা নিরিবিলি সময় কাটান।
এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে সি পি এস বিভাগের বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব রনি জানান এটি আমাদের ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়ার অন্যতম একটি স্থান,আমরা এখানে দিঘীর পাশে স্থাপিত বেন্চে বসে সময় কাটাই।এ ব্যাপারে মাভাবিপ্রবির অপর এক শিক্ষার্থী মো শাকিল খান বলেন এটি শুধু মাভাবিপ্রবির ক্যাম্পাসের একটি সাধারণ স্থান নয় বরং এটি ৩ শতকের ইতিহাস ঐতিহ্য ধারণ করে, কতৃপক্ষের উচিত এটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
তবে দিঘীটির চারপাশে যথাযথ পরিচর্যা না থাকায় পানি দূষণ, আবর্জনা ফেলা ও জলজ উদ্ভিদের বিস্তার এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দিঘীটির সঠিক সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, শাহজামান দিঘী শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, পুরো সন্তোষ অঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রতীক। যথাযথ উদ্যোগ নিলে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।