যবিপ্রবির রুবেল: ক্লাসের পরে ফাস্টফুড উদ্যোক্তা

যাবিপ্রবি প্রতিনিধি।
যবিপ্রবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট্ট দোকান চালিয়ে জীবনের কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
যবিপ্রবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট্ট দোকান চালিয়ে জীবনের কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রুবেল হোসেন জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শুধু টিউশনি করে নিজের খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি হাতে নিয়েছেন ছোট্ট একটি ফাস্টফুডের দোকান। এখানে তিনি বিক্রি করেন চপ, পেঁয়াজু ও অন্যান্য নাস্তা।

রুবেলের প্রতিদিনের জীবন চলে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পড়াশোনায় সময় দেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান চালান। কখনো কখনো ক্লাস শেষ হলে দোকান একটু আগে খুলে দেন। পাশাপাশি টিউশনিও চালিয়ে যেতে হয় তাকে। ফলে দিন শেষে শারীরিক ক্লান্তি দেখা দিলেও পড়াশোনার ক্ষতি হয়নি বলেই জানান তিনি। বরং এই পরিশ্রম তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্ববান করে তুলছে।

রুবেলের উদ্যোগকে সহপাঠী ও শিক্ষকেরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকেই তার সংগ্রামী মানসিকতাকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিশেষ সুবিধা পাননি, তবে তিনি বিশ্বাস করেন নিজের প্রচেষ্টা দিয়ে সামনের পথ আরও মসৃণ করতে পারবেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রুবেল জানান, তার স্বপ্ন হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) ক্যাডার হওয়া। পাশাপাশি কৃষি খাতে কাজ করারও প্রবল আগ্রহ রয়েছে তার। তিনি মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম এবং সৎ প্রচেষ্টা থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব।

রুবেলের এই সংগ্রামের গল্প সমাজে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা অনেক শিক্ষার্থীকে মাঝপথে থামিয়ে দেয়, কিন্তু তিনি প্রমাণ করেছেন—মনোবল দৃঢ় থাকলে পথ তৈরি হয় নিজের হাতেই।

সম্পর্কিত