মেডিকেল ভর্তি ফিরছে পুরনো ২০০ নম্বরে!

নিজস্ব প্রতিবেদক।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পরিবর্তন আসছে আসন ও জিপিএ গণনায়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পরিবর্তন আসছে আসন ও জিপিএ গণনায়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

আগামী শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬ থেকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা আবারও অনুষ্ঠিত হবে ২০০ নম্বরের পূর্ণমান নিয়ে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত বা এমসিকিউ অংশের জন্য থাকবে ১০০ নম্বর এবং বাকি ১০০ নম্বর আসবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে।

এবার জিপিএ থেকে প্রাপ্ত নম্বর গণনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসএসসি জিপিএকে ৮ দিয়ে এবং এইচএসসি জিপিএকে ১২ দিয়ে গুণ করে মোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

অন্যদিকে, আবেদন পদ্ধতিতেও এসেছে পরিবর্তন। শিক্ষার্থীরা এবার তিনভাবে আবেদন করতে পারবেন— শুধু মেডিকেল, শুধু ডেন্টাল কিংবা মেডিকেল ও ডেন্টাল উভয়ের জন্য যৌথভাবে। এই নতুন সুবিধার ফলে আবেদনকারীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ভর্তি আসনের সংখ্যাতেও পরিবর্তন এসেছে। সরকারি মেডিকেল কলেজে ৪০৮টি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজে একই সংখ্যক ৪০৮টি আসন কমানো হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন ভর্তি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

যোগ্যতার দিক থেকেও কিছু কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। এবার এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে সর্বনিম্ন জিপিএ ৮.৫ থাকতে হবে। পাশাপাশি দুই পরীক্ষাতেই আলাদা করে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০ প্রয়োজন। জীববিজ্ঞানে অবশ্যই জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। অন্যথায় আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই পরিবর্তনের ফলে ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই বলছেন, জিপিএর গুরুত্ব বাড়ায় এখন ভালো রেজাল্ট এবং লিখিত প্রস্তুতি— উভয় ক্ষেত্রেই সমান মনোযোগ জরুরি।

শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এখন থেকেই অধ্যয়ন পরিকল্পনা সাজিয়ে নেওয়া, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করা এবং আবেদন প্রক্রিয়া ভালোভাবে বোঝা। কেননা, এবারকার ভর্তি পরীক্ষায় সামান্য ভুলও ভর্তির সুযোগ হারানোর কারণ হতে পারে।

সম্পর্কিত