বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র প্রকাশের পরই শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ড. নাদিম মাহমুদ এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বানানগত ও তথ্যগত অনেক ত্রুটি রয়েছে। যেমন ‘গনঅভুধান’ লেখা হয়েছে ‘গণঅভ্যুত্থান’ এর পরিবর্তে, ‘গনমাধ্যম’ লেখা হয়েছে ‘গণমাধ্যম’ এর পরিবর্তে, এবং ‘শুনে কোটায়’ লেখা হয়েছে ‘শূন্য কোটায়’ এর পরিবর্তে। এই ধরনের ভুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং প্রশ্নপত্রের গুণগত মানের উপর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, এবং তিস্তা চুক্তি মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, কুর্দিস্তান, ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তৃত প্রশ্ন থাকলেও দেশের প্রাসঙ্গিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রায় উপেক্ষিত হয়েছে। লেখক মনে করেন, এটি একটি চিন্তার বিষয় যে, দেশের মূল ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয় সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বোঝার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশ্নপত্র যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে কি না।
ড. নাদিমের মতে, এই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্র শুধু শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তই করছে না, বরং এটি দেশের পরীক্ষার মান ও স্বচ্ছতার উপরও প্রভাব ফেলছে। তিনি প্রশাসনিক ও পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা প্রশ্নপত্র প্রণয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হোক এবং দেশের প্রাসঙ্গিক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিষয়কে প্রাধান্য দিক।
বিসিএস পরীক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু আন্তর্জাতিক বিষয় নয়, দেশের নিজস্ব ইতিহাস ও পরিচয়কেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঠিক প্রস্তুতি এবং ন্যায়সংগত মূল্যায়নের জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ অপরিহার্য।