সরকারের সিদ্ধান্ত নাখোশ, আজ থেকে অনশনে বসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ঢাবি প্রতিনিধি
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা ছবি: ফাইল ফটো
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা ছবি: ফাইল ফটো

আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ হারে বা নূন্যতম ২০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া দেয়ার সরকারের প্রস্তাব নাখোশ হয়ল অনশনে বসার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকার দাবি না মানলে আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর থেকে অনশনে বসতে যাচ্ছেন তারা। এরপরেও সরকার যদি দাবি মেনে না নেন, তাহলে পরবর্তীতে রবিবার থেকে আমরণ অনশনের দিকে যাবেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

এইদিন লংমার্চ টু যমুনা কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারী দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে আজকের মত মার্চ টু যমুনা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। সুযোগ সন্ধানীরা যেন কোন ধরনের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, সেজন্য এই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। সেই পর্যন্ত আমাদের ২৪ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচি চলমান থাকবে। আশা করি, এ সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়া হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হয়, শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু হবে। এরপরেও সরকার যদি দাবি মেনে না নেন, তাহলে পরবর্তীতে আমরণ অনশনের দিকে যাবেন। অনশন করতে করতে আমরা শিক্ষকরা এখানেই মৃত্যুবরণ করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাব না, আমাদের লাশ এখান থেকে যাবে।’

সেই পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি এবং দাবি পূরণে দেশব্যাপী সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

‎এদিকে দুপুরে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে বসেন শিক্ষকদের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) তাদের জানান, বাড়িভাড়া ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়।

উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষকরা রাজি হলে ১ নভেম্বর থেকেই এই ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধি বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার শিক্ষকদের এমন কোন আশ্বাস দিতে চায় না, যা পরবর্তীকালে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ৫ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যান্য ভাতার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু আমরা শিক্ষা উপদেষ্টাকে বৈঠকে এখন ১০ শতাংশ এবং পরবর্তী বাজেটে ১০ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম। প্রজ্ঞাপনে যা স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকবে এমনটা বলেছি। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো কথাই বলেননি। তাই আমরা মনে করি এই বৈঠক আই ওয়াশ।’

দাবি পূরণে অনড় থাকার অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমাদের লাশ যাবে। অনশন করব, তবুও বাড়ি ফিরব না। আন্দোলন চলবে।’

এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গত রবিবার শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তিন দফা দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরই প্রতিবাদে এবং দাবি আদায়ে সোমবার থেকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিকেল ৪টার দিকে তারা সচিবালয়ের দিকে এগোলে হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। বুধবারও একই দাবিতে বেলা আড়াইটার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষকরা, বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড় থেকে সরে যান তারা। আন্দোলনরত শিক্ষকদের ভাষ্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরছেন না।

তাদের তিন দফা দাবি হলো— মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাতা প্রদান, শিক্ষক ও কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা।

সম্পর্কিত