শিক্ষায় ব্যয়ের দিক থেকে জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সবচেয়ে নিচের সারিতে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ ব্যয় করা হয়, যা ইউনেস্কোর প্রস্তাবিত ৪ থেকে ৬ শতাংশের তুলনায় অনেক কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে ব্যয় করা হয় মাত্র ২২৩ ডলার বা ২৭ হাজার ২০৬ টাকা। তুলনামূলকভাবে পাকিস্তানে এই ব্যয় ৬০০ ডলার, নেপালে ৫৫০ ডলার। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় ১ হাজার ডলারেরও বেশি।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষায় বরাদ্দ কম থাকায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দেশের অধিকাংশ বাজেটই অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষকদের বেতনে ব্যয় হয়, ফলে পাঠ্যবস্তু উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণে যথাযথ বিনিয়োগ হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মনিনুর রশিদ বলেন, “আমাদের দেশের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যবস্তুর মানের অভাব শেখার দক্ষতা কমিয়ে দিয়েছে। পাসের হার বাড়ানো হলেও প্রকৃত শেখার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।”
এদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা হলেও তা মোট বাজেটের মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার হওয়া উচিত ১৫–২০ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কম হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শিক্ষা খাতকে ‘খরচ’ নয়, বরং ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখতে হবে।
শিক্ষাবিদ আহমেদ শাহরিয়ার বলেন, “শিক্ষায় শুধু বাজেট বাড়ানো নয়, সঠিকভাবে ব্যয় করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক সংখ্যা বাড়াতে হবে, শ্রেণিকক্ষের চাপ কমাতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের অভিমত—শিক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ, দক্ষ শিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।