রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নতুন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) তারা পালন করবেন ‘লং মার্চ টু শিক্ষা ভবন’। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা এখন এমন এক সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে এক পা পিছিয়ে আসা মানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আশা ও আত্মত্যাগকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া। বহু প্রতীক্ষিত অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে, অন্যথায় আন্দোলনের আগুন আরও জ্বলে উঠবে।”
তারা আরও উল্লেখ করেন, “২৪ ও ২৫ তারিখে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে, তা শুধুমাত্র দাবি আদায়ের নয়; এটি এখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ইতিহাসে এত সংগঠিত, পরিকল্পিত ও পরিণত আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করে শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ুক। তবে যদি আমাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে চুপ থাকা আর সম্ভব নয়।”
সাত কলেজের এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রশংসা করছেন।
শিক্ষার্থীরা শেষবারের মতো আহ্বান জানিয়েছেন, “আমাদের দাবি যদি দ্রুত মেনে নেওয়া না হয়, তবে শিক্ষা ভবনের সামনে লং মার্চ হবে এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদ—যা কেউ থামাতে পারবে না।”